
দেলোয়ার হোসেন :
গাজীপুরে আইন ও সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কৃষি জমি, জলাশয় ও পুকুর ভরাটের হিড়িক পড়েছে। জেলা প্রশাসনের কোনো চূড়ান্ত অনুমোদন ছাড়াই পূবাইলের সাতানীপাড়া এলাকায় একটি লাভজনক বিশাল পুকুর ও কৃষি জমি কৌশলে ভরাট করে চলেছে একটি প্রভাবশালী মহল। ঘটনাস্থলের চিত্র ও মালিকানা
পূবাইল মৌজার খতিয়ান নং- ২৮৫ এবং আর এস দাগ নং- ১২০৫ এর এই জলাশয়টি রেকর্ড অনুযায়ী বোরো জমি হলেও পরবর্তীতে সেখানে পুকুর খনন করে দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষ করা হচ্ছিল। এমনকি গত বছরও এই পুকুর থেকে প্রায় আট লাখ টাকার মাছ উৎপাদিত হয়। বর্তমান জমির মালিক এটিকে ‘নাল ও চালা জমি’ হিসেবে দাবি করলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ভিন্ন তথ্য। অবৈধভাবে বালু ফেলে এই পুকুর ভরাটের নেপথ্যে কাজ করছেন বিন্দানের আজমিন ও টঙ্গী টিএনটির টিপু। বালু ব্যবসায়ী আজমিন দাবি করেছেন যে, পুকুর ভরাটের জন্য জেলা প্রশাসকের অনুমতি আনা হয়েছে। তবে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আলী হোসেন জানিয়েছেন, তিনি একাধিকবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কর্ণপাত না করে জোরপূর্বক বালু ভরাট চালিয়ে যাচ্ছেন।
বারবার ভরাটের অপচেষ্টা গত বছরের ২০ অক্টোবর ফরিদুদ্দীন আহমেদ নামের এক ব্যক্তি একই ধরনের আবেদন করে দাবি করেন, মাটি কেটে নেওয়ার কারণে তার জমি নিচু হয়ে গেছে। এই অজুহাতে তিনি পুকুর ভরাট করে স্থায়ী শেড নির্মাণের অনুমতি চান। সে সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সেই অপচেষ্টা প্রতিহত করেন।প্রথম প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর, ঢাকার উত্তরার বাসিন্দা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম সুমন গত ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবর একই উদ্দেশ্যে নতুন আবেদন করেন, যা ৩০ আগস্ট কার্যালয় কর্তৃক গৃহীত হয়। আইনি বাস্তবতা ও প্রশাসনের অবস্থান
আইন অনুযায়ী কোনো জলাশয় বা পুকুর ভরাট করার সুযোগ না থাকলেও ডিসি অফিসে কেবল একটি আবেদন জমা পড়ার বিষয়টিকে চূড়ান্ত অনুমতি হিসেবে প্রচার করে এই অবৈধ কাজ চালানো হচ্ছে। মূলত এটি কোনো আইনি অনুমতি বা আদেশ নয়, কেবল একটি বিচারাধীন আবেদন মাত্র। পরিবেশগত ঝুঁকি এলাকাবাসীর উদ্বেগ স্থানীয় পরিবেশবাদীদের মতে, কাগজে-কলমে জলাশয়কে ‘নাল ও চালা জমি’ হিসেবে মিথ্যা তকমা দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে শেড নির্মাণের এই অপচেষ্টা এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে মারাত্মক হুমকিতে ফেলছে। বিশেষ করে, পুকুরটি ভরাট করা হলে সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের লাগোয়া পূর্ব পাশে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে এবং আশপাশের পরিবেশ ধ্বংস হবে।
পূবাইলসহ গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় চক্রের এমন নির্বিচারে বালু ভরাট অবিলম্বে বন্ধ না হলে জলাভূমি ধ্বংসের এক বিপজ্জনক দুয়ার উন্মোচিত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। পরিবেশ ও জনস্বার্থে প্রশাসনের দ্রুত এবং কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।