
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড তথ্যভাণ্ডার খানা তথ্য শুমারি-২০২৬’ এর সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে চরম অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে সিলেট জেলা বিয়ানীবাজার উপজেলায়। লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় অংশ না নিয়েও চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং একই পরিবার বা ওয়ার্ড থেকে একাধিক প্রার্থীকে নির্বাচিত করার প্রতিবাদে বঞ্চিত আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।উপজেলাভিত্তিক প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে একজন সুপারভাইজার এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে শত শত শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী ও নারী আবেদন করেন এবং যথানিয়মে পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতা না থাকা এবং পরীক্ষায় খারাপ ফল করেও রাজনৈতিক প্রভাবে অনেকের উত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগ ওঠে।প্রকাশিত তালিকা বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ০৫ নং কুড়ারবাজার ইউনিয়নে তথ্য সংগ্রহকারী পদে প্রাথমিকভাবে ৮ জনকে নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে তালিকার ২ নম্বর ক্রমিকে থাকা মাসুমা আক্তার এবং ৪ নম্বর ক্রমিকে থাকা কুলসুমা আক্তার কুসুম—উভয়েরই পিতা ‘হাজী মোহাম্মদ আলী’ ও ঠিকানা ‘খশির বন্দ’ উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ, একই পরিবার থেকে দুই আপন বোনকে নিয়োগ দেওয়ায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বঞ্চিত প্রার্থীরা আরও জানান, দলীয় প্রভাবশালী নেতাদের সুপারিশে নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় প্রকৃত মেধার মূল্যায়ন হয়নি। ৫ নং কুড়ারবাজার ইউনিয়নের লাউজারী গ্রাম থেকে সুপারভাইজার পদে আবেদনকারী ফরহাদ আহমেদ পরীক্ষায় অংশ নিলেও তাকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া আরেকজনকে চূড়ান্ত তালিকায় উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে। ১০ নং মুড়িয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়া এলাকার আবেদনকারী পান্না বেগম জানান, ডিগ্রি, আইসিটি সার্টিফিকেট এবং দুটি শুমারির অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। একই এলাকার রাব্বি নামের আরেক আবেদনকারী জানান, পূর্ব অভিজ্ঞতা ও ভালো পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও তাকে বাদ দিয়ে অদক্ষদের উত্তীর্ণ করা হয়েছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, বিশেষ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও তাদের স্বজনদের প্রাধান্য দিয়ে এই বিতর্কিত তালিকা তৈরি করা হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান, রেজাল্ট দেওয়া তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে পরবর্তীতে তিনি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিয়ানীবাজার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা অনুজ চক্রবর্তী বলেন, তদন্তে এ ধরনের দুর্নীতির সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে ইউএনও ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা দলীয় প্রভাবের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিয়ানীবাজারের সচেতন নাগরিক ও সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা প্রকাশিত এই বিতর্কিত তালিকা অবিলম্বে বাতিল করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।