
শখের নানির বাড়ি
বিরহ কবি মোঃ খাইরুল ইসলাম
শহর ছেড়ে গ্রামের টানে,
ছুটে চলি ভাই,নানির বাড়ির মতো সুখ যে আর কোথাও নাই।
মেঠো পথ আর সবুজ মাঠের স্নিগ্ধ হাওয়া এসে,
মনটা আমার জুড়িয়ে দেয় পরম ভালোবেসে।
নানির বাড়ির উঠোন জুড়ে হাসনাহেনার ঘ্রাণ,
পাখির ডাকে সকাল হলে জুড়ায় সবার প্রাণ।
গাছের ডালে ঝুলছে কত আম-কাঁঠাল আর জাম,
ছুটির দিনে নানিবাড়ির অন্যরকম দাম।
দুপুর রোদে মামাতো ভাই-বোনদের ওই মেলা,
পুকুর ঘাটে সাঁতার কাটা, গোল্লাছুটের খেলা।
বিকেল হলেই নানির আঁচল জড়িয়ে ধরে বসা,
পিঠা-পুলির গন্ধে মাতাল, গল্প শোনার নেশা।
চাঁদের আলোয় উঠোনেতে মাদুর পেতে রাতে,
রূপকথা সব শুনতাম মোরা নানির হাতের ভাতে।
শখের আমার নানির বাড়ি আনন্দেরই মেলা,
স্মৃতির পাতায় জড়িয়ে থাকে শৈশবের সেই খেলা।
নানি আর নানা যেন দেখতে তাঁরা কত মায়া।
নানির সাথে নানা ঝগড়া থামাতাম কত বেলা,
হারের নানি শখের নানি,
ছাড়ালি আমার ছাড়ি এই দুনিয়ায় মায়া,
কোথায় গেলে নানি আমি পারবো তোমার দেখা।
নানা সাথে এক হাতে হাত রেখে যেতাম কত মেলা,
নানা বাড়ি সামনে দেখার মতো কত জিনিসের মায়া।
ছাড়লাম নানা-নানির ঘর-বাড়ি এক আশার,
নানি দেখা পারবো না বলে নানা সাথে করতাম কত ঝগড়া।
নানা তুমি দাও গো বলে, নানি গেছে কোথায়,
নানি আঁচলে ছায়া ছাড়া আমার কাটে না যে বেলা।
নানা বলে নানি তোমার দেবে না গো আর দেখা,
সে যে পর করে চলে গেছে তাহার নিজের সকল মায়া।
আমাদের সাথে হবে না আর দেখা তাহার আপন ঘরে ভাসছে বাসা।